ফ্লোর প্রাইস আতঙ্কে পুঁজিবাজারে বড় ধস, রটছে গুজব!

   April 8, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে টানা তিন কার্যদিবসে বড় উত্থানের পর বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এদিন বিমা খাতের কোম্পানি বাদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব খাতের শেয়ারের দাম কমেছে। এতে ৮৩ পয়েন্ট প্রধান সূচক কমেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২১৩ পয়েন্ট সূচক কমেছে। পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও লেনদেন। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে বিনিয়োগকারীরা ফোর্স সেল আতঙ্কে রয়েছেন বলে গুজব রটছে।

তবে বিনিয়োগকারীদের সাথে আলাপকালে বলেন, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে সব বিনিয়োগকারীরা শেয়ার আটকে রাখছেন তারা এখন ফোর্স আতঙ্কে রয়েছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের সিদ্ধান্ত হঠকারী বলে মনে করেন।  তবে বিএসইসি বড্ড অসময়ে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে বলে অনেকে সমালোচনাও করেছেন। বাজারে যখন লেনদেন ১৫০০-২০০০ কোটি হচ্ছিল এবং সূচকে তেজিভাব ছিল, ওইসময় ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়া যেত বলে অনেকে মনে করেন। আর এই মুহুর্তে তুলে নেওয়াটাকে খামখেয়ালি বলেই মনে করছেন অনেকে।

২০২০ সালে বিশ্বব্যপী শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন দেখা দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সাবেক কমিশন তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়। ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে চালু রাখেন।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে বিতর্ক চলছিলো। বিশেষ করে কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার ইস্যুর পরও ফ্লোর প্রাইসের কারণে প্রকৃত দর সমন্বয় হচ্ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লোর প্রাইস রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে সমন্বয়ের পর যে দর নির্ধারণ হবে তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রাইস ফ্লোর হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে বুধবার ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শিগগিরই আরও ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা। তারা বাজারে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়েছে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন, যার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। ফলে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে হঠাৎ করে পতন নেমে এসেছে।

এ কাধিক বিনিয়োগকারীরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক ৬৬ কোম্পানির উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর সীমা) তুলে নেওয়ার নির্দেশনায় পুঁজিবাজারে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটা বুধবারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরু থেকেই বাস্তবে প্রমাণ মিলে। যে সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজার দেখল বড় পতন।

বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত তৈরি করে ফ্লোর প্রাইস। যে কোম্পানি লেনদেন হওয়ার কথা, সেটি লেনদেন হচ্ছে না। আর হলেও সেই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে না। এসব কোম্পানির শেয়ার যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে আছে তারা পারছেন না শেয়ার বিক্রি করতে। কারণ যে দরে ফ্লোর প্রাইস ধরা হয়েছে সে দরে কেউ কিনতে চান না।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ায় সে কোম্পানিগুলোর এখন হয় শেয়ারের দর বাড়বে না হয় কমবে। বিনিয়োগকারীরা স্বাধীনভাবে তাদের শেয়ার লেনদেন করতে পারবে।’‘লকডাউনের মধ্যে টানা তিন দিন সূচকের উত্থান হয়েছে। এক-দুই দিন কমবে। এটাই স্বাভাবিক। ‘সূচক পতন হয়েছে বলে যেসব বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে তাদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক। তাই ১দিনের পতনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গত ৩দিনের টানা বড় উত্থানের পরে মুনাফা নেওয়ায় আজ কারেকশন হয়েছে। এছাড়া মার্জি ঋণ গ্রহিতাদের মধ্যে সপ্তাহের শেষ দিন বিক্রির চাপ কিছুটা থাকে। তারা শুক্রবার ও শনিবারের সুদ থেকে রেহাই পেতে এদিন ক্রয় করে না। বরং বিক্রি করে।

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পরে আজ (০৮ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম কারন হিসেবে রয়েছে টানা ৩দিনের বড় উত্থানের পরে দর সমন্বয়। তবে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া নিয়ে একটি চক্রের সৃষ্ট আতঙ্কও ভূমিকা রেখেছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর মাত্র ২০ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ৭৮ পয়েন্ট। পরের ২০ মিনিট শেয়ারের দাম কিছুটা বাড়লেও দিনের বাকি লেনদেন হয় শেয়ার বিক্রির চাপে। ফলে বড় পতনের মধ্যদিয়ে এদিনের লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস ৩০-সূচক কমে ২০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক কমেছে ১৬ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৭২ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যেখানে এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকার। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ২৬৪টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- প্রভাতী, পূরবী জেনারেল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স, অগ্রণী ইনস্যুরেন্স, লিব্রা ইনফিউশন, রুপালি ইনস্যুরেন্স, নর্দার্ন, ফেডারেল, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স এবং এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড।

যথারীতি লেনদেন বাড়ার শীর্ষে রয়েছে- বেক্সিমকো, রবি আজিয়াটা, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, প্রভাতী ইনস্যুরেন্স,পূরবী জেনারেল, অগ্রণী, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক আগের দিনের চেয়ে ২১৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ১১৫টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে লন্ডভন্ড: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানা শঙ্কার মধ্যে বুধবার (০৭ এপ্রিল) ৬৬ কোম্পানির উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর সীমা) প্রত্যাহার করে নেয়। যাতে প্রত্যাশিতভাবে লেনদেনের প্রথমদিনেই (বৃহস্পতিবার ০৮ এপ্রিল) সেগুলোর প্রায় সব কোম্পানির দরপতন হয়েছে। এরমধ্যে ব্যতিক্রম ছিল একমাত্র নাভানা সিএনজি। কোম্পানিটির দর বেড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে বুধবার লেনদেন শেষে প্রায় ১১০টি কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে ছিল। এরমধ্যে ৫০ টাকার নিচে অবস্থান করা ৬৬ কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বিএসইস। যেগুলোর বাজার মূলধন ৫ শতাংশের কাছাকাছি। বিএসইসি ধারণা করেছিল, এ ৬৬ কোম্পানির দর পতন হলেও বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না। যার আলোকে কোম্পানিগুলো থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়। কিন্তু ওইসব কোম্পানির দর পতনে অন্যসব কোম্পানির উপরেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটি কমিশন আমলে নেয়নি। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ৬৬টি কোম্পানির মধ্যে আজ লেননেদ হয়েছে ৬৩টি কোম্পানির। এরমধ্যে ৬১টির দর পতন হয়েছে। আর নাভানা সিএসজির দর বেড়েছে ও আরএন স্পিনিংয়ের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাকি ৩ কোম্পানির শেয়ার রেকর্ড ডেট ও স্থগিতাদেশের কারণে লেনদেন হয়নি।

লেনদেন না হওয়া ৩ কোম্পানির মধ্যে রেকর্ড ডেটের কারণে গোল্ডেন হার্ভেস্টের লেনদেন আজ বন্ধ ছিল। এছাড়া বিডি সার্ভিসের শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিক্রেতা না থাকায় লেনদেন হয় না এবং পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। বিনিয়োগকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করে বলছেন, বিএসইসি বড় অসময়ে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে। বাজারে যখন লেনদেন ১৫০০-২০০০ কোটি হচ্ছিল এবং সূচকে তেজিভাব ছিল, ওইসময় ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়া যেত বলে অনেকে মনে করেন। আর এই মুহুর্তে তুলে নেওয়াটাকে খামখেয়ালি বলেই মনে করছেন অনেকে।

তবে কমিশনের একটি সূত্রে জানা গেছে, কমিশন ধারণা করেছিল মূল্যসূচক ৫৯০০ থেকে নেমে কারেকশন হয়ে ৫৬০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নামবে। এরপরে সূচক আবার উর্ধ্বমূখী হবে। ওইসময় ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। সূচক ধারাবাহিক পতন হয়ে ৫ হাজার ১শ’র নিচে নেমে যায়। যে কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ি ফ্লোর প্রাইস তোলা সম্ভব হয়নি। এখন বাজার তেজিভাবে ফেরায় প্রতিষ্ঠানটি ফ্লোর প্রাইস তোলার উদ্যোগ নেয়।

দরপতন বিষয় নিয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত তৈরি করে ফ্লোর প্রাইস। যে কোম্পানি লেনদেন হওয়ার কথা, সেটি লেনদেন হচ্ছে না। আর হলেও সেই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে না। এসব কোম্পানির শেয়ার যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে আছে তারা পারছেন না শেয়ার বিক্রি করতে। কারণ যে দরে ফ্লোর প্রাইস ধরা হয়েছে সে দরে কেউ কিনতে চান না।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ায় সে কোম্পানিগুলোর এখন হয় শেয়ারের দর বাড়বে না হয় কমবে। বিনিয়োগকারীরা স্বাধীনভাবে তাদের শেয়ার লেনদেন করতে পারবে।’‘লকডাউনের মধ্যে টানা তিন দিন সূচকের উত্থান হয়েছে। এক-দুই দিন কমবে। এটাই স্বাভাবিক। ‘সূচক পতন হয়েছে বলে যেসব বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে তাদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।’

নিম্নে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়া ৬৬ কোম্পানির তথ্য তুলে ধরা হল: পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস, আর এন স্পিনিং মিলস, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, আইএফআইসি ইসলামি মিউচুয়াল ফান্ড, জাহিন স্পিনিং, রিং সাইন টেক্সটাইল, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, ইভেন্সি টেক্সটাইল, প্যাসিফিক ডেনিম, মেট্রো স্পিনিং, কাট্টালী টেক্সটাইল, ফার কেমিক্যাল, দেশবন্ধু পলিমার, ইয়াকিন পলিমার, সাফকো স্পিনিং মিলস, ওয়েস্টান মেরিন শিপইয়ার্ড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল, বিচ হ্যাচারি, সীমটেক্স ইন্ডাস্ট্রি, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রি, হামিদ ফেব্রিক্স,

প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, সায়হাম কটন, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, গোল্ডেন হারভেস্ট, এএফসি অ্যাগ্রো, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, বেঙ্গল ওয়েন্ডসন, এমএল ডাইং, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইল, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রি, দুলামিয়া কটন, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, উসমানিয়া গ্লাস শিট, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ইসলামি লাইফ, স্ট্যান্ডার্ন্ড ইন্স্যুরেন্স, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ঢাকা ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই কোম্পানি, নাভানা সিএনজি, গ্লোবাল হ্যাভি ক্যামিকেল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রি, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, রূপালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, কুইস সাউথ টেক্সটাইল মিলস, অ্যাডভান্ট ফার্মা, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, ইস্কিউ নিট, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রি, শাসা ডেনিম, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রি, আর্গন ডেনিম, ইন্দো বাংলা ফার্মা ও সালভো ফার্মা এবং ওয়াইমেক্স ইলেকট্রনিক্সস।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক ৬৬ কোম্পানির উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর সীমা) তুলে নেওয়ার নির্দেশনায় পুঁজিবাজারে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটা গতকালকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরু থেকেই বাস্তবে প্রমাণ মিলে। যে সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজার দেখল বড় পতন।

আগের কার্যদিবস বুধবার বিএসইসি ৬৬ কোম্পানির উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়। যাতে স্বাভাবিকভাবেই ওইসব কোম্পানির দর পতন প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু বাজারে ওই কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহন খুব কম হলেও এগুলোর পতন অন্য কোম্পানিগুলোর উপরে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আজকের লেনদেনে সেই শঙ্কা বাস্তব হয়েও দেখা দিল। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬৪টির দর পতন হয়েছে। দর বেড়েছে মাত্র ৪৭টির। বাকি ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দর পতনে হওয়া ২৬৪টি কোম্পানির মধ্য ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা ৬৬টি কোম্পানির সবগুলোই ছিল। ৬৬ কোম্পানির দরই বেশি পড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার বিভিন্ন চাপে রয়েছে। এ সময়ে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা সমীচীন হয়নি। যে কারণে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের চাপ নিতে পারেনি পুঁজিবাজার।

বিএসইসি বড্ড অসময়ে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে বলে অনেকে সমালোচনাও করেছেন। বাজারে যখন লেনদেন ১৫০০-২০০০ কোটি হচ্ছিল এবং সূচকে তেজিভাব ছিল, ওইসময় ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়া যেত বলে অনেকে মনে করেন। আর এই মুহুর্তে তুলে নেওয়াটাকে খামখেয়ালি বলেই মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮২.৫৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৪.৭৭ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৬.৫০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০.৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১৯৭.৬৬ পয়েন্টে এবং ১৯৯০.৩৯ পয়েন্টে। আজ ডিএসইতে ৪৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকার।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯৭.৮১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৩৭.০৯ পয়েন্টে। সিএসইতে আজ ২১৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫৪টির আর ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

ডিএসইতে ৫০ কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতা উধাও: পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৬ কোম্পানির শেয়ার দামের সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার পরদিন আজ বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই ৫০ কোম্পানির বেশি শেয়ারের ক্রেতা উধাও হয়ে যায়। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবগুলোই ৬৬টি কোম্পানির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত।

এদিকে, লেনদেন শুরু হতেই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। লেনদেনের প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক পড়ে যায় ৬০ পয়েন্টের বেশি।

অথচ এর আগে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ-এর মধ্যে পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়। বিধিনিষেধ আরোপের প্রথম তিন দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় আড়াইশ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার কমিশন সভা করে তালিকাভুক্ত ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে এই কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিএসইসি। বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির কড়া সমালোচনা করতে থাকেন।

পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এসব বিনিয়োগকারীরা পোস্ট দেন বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের কারণে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আতঙ্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্য দিয়ে। ফলে প্রথম ৫ মিনিটের লেনদেনেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স-এ ৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সূচকের পতন প্রবণতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দাম কমার তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।

সিঙ্গার বিডির পর্ষদ সভা ১৫ এপ্রিল: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিটির পর্ষদ সভা আগামী ১৫ এপ্রিল বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সভায় ৩১ মার্চ, ২০২১ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের নীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ আলোচিত প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।

জনতা ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ডের সভা ১৫ এপ্রিল: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জনতা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিটির পর্ষদ সভা আগামী ১৫ এপ্রিল দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের নীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ আলোচিত প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি। একই সভায় কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পরযালোচনা ও প্রকাশ করা হবে। ২০১৯ সাল কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

 

আর্থিক খাতের তিন কোম্পানি বিনিয়োগকারীরা মুনাফায়

admin amin  September 18, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতে লেনদেন হওয়া ২২ কোম্পানির মধ্যে ৩ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা গত সপ্তাহে ভােলো মুনাফা পেয়েছে। পাশাপাশি...

সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারালো ডিএসই

admin amin  September 18, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা ছয় সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গেল সপ্তাহ কিছুটা পতনের মধ্য দিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে এক...

সপ্তাহজুড়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দাপট দেখাল ৬ কোম্পানি

admin amin  September 18, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহজুড়ে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে দাপট দেখিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো: ন্যাশনাল হাউজিং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ,...

চার ইস্যুতে ​উত্তাল পুঁজিবাজার, সপ্তাহজুড়ে স্বস্তির ঘাটতি

admin amin  September 17, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে নানা গুজবে বাজার উঠানামার মধ্যে ছিল। এর মধ্যে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে...

পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার খবরে ২৩১ টাকা উধাও ওয়ালটনের

admin amin  September 17, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের দেশের মেগা কোম্পানি ওয়ালটনের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। কোম্পানিটির ১০ শতাংশ শেয়ার...

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি, ছিল পুঁজিবাজারে টাকার তোলার পরিকল্পনা

admin amin  September 17, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দেনা এক হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লাভ করতে...

ইউনাইটেড এয়ারসহ ১৮ কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের সুখবর

admin amin  September 16, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডসহ ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের ১৮ কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ করে...

ওটিসি মার্কেট বাতিল, পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত ২৯ কোম্পানি

admin amin  September 16, 2021

এফ জাহান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দীর্ঘদিন ওটিসি মার্কেটে থাকা ২৯ কোম্পানি তালিকাচ্যুত বা অবসায়ন হচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে আইন...

সূচক কিছুটা বাড়লেও ২০৮ কোম্পানির দরপতন

admin amin  September 16, 2021

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা:  পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের কিছুটা উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ২০৮ কোম্পানির...