দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল রবিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর দিনটিতে ঈদ উদযাপন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আজ শনিবার বিকেল থেকেই শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য অগণিত মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সভাকক্ষে মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।



আজ আরবি ১৪৪১ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে রবিবার আর চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রোজা শেষে সোমবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

দেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সরাসরি অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গত বৃহস্পতিবার ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। চাঁদ দেখা কমিটির ফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর : ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯১৫।

ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সবাই শামিল হন ঈদগাহ ময়দানে। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে মুসল্লিরা রেওয়াজ ও ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে কোলাকুলি করেন একে অপরের সঙ্গে। তবে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে খোলা ময়দানে ঈদ জামাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হাত না মেলানোর জন্য মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আজ বা আগামীকাল যেদিনই ঈদ হোক ঈদের নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন মুসলমানরা। মুসলিম মিল্লাতে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, মুসলিম জাহানের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং মহামারী থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হবে ঈদ জামাত শেষে।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, যারা এক মাস রোজা রেখে অভুক্ত থাকার কষ্টকে অনুভব করেছেন, নামাজ, তারাবি, ইবাদত-বন্দেগি এবং ইসলামের অনুশাসন মেনে চলেছেন, এই ঈদ আনন্দ তাদের জন্যই বেশি উপভোগের। তাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে এক মহা পুরস্কার হচ্ছে ঈদ। যারা রোগব্যাধি ছাড়াই সুস্থ দেহে সিয়াম সাধনা না করে উদর পূর্তি করেছেন এবং রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন, ঈদ আনন্দ তাদের জন্য নয়।

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহ ও সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, শাসক-শাসিত ও আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্য ঈদের আনন্দ যেন সমান ও ব্যাপক হয় ইসলামে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। পবিত্র রমজানে বিত্তবানরা এগিয়ে এলে, দানখয়রাত করলে, জাকাত ও ফিতরা দিলে দরিদ্ররাও ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। তাদের মুখেও হাসি ফুটবে এবং ঈদের ভোর আসবে তাদের জন্য আনন্দবার্তা হয়ে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের খুতবায় দানখয়রাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন।

এবারের ঈদ উদযাপিত হবে করোনা সংক্রমণের সাধারণ ছুটির মধ্যে। সাধারণত প্রতি বছর ঈদে নতুন জামা-কাপড় কেনা হয়। এবার করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ শপিং মল বন্ধ রাখা হয়েছে। লোকজন কেনাকাটাও করেছে খুবই কম। ঈদের কেনাকাটার অর্থের কিছু অংশ গরিব-অসহায় মানুষকে সহায়তা হিসেবে দেওয়ার জন্য সরকার ও বিশিষ্টজনদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ চাঁদ দেখা গেলেই ঘরে উপাদেয় খাদ্যসামগ্রী তৈরি হবে। সেমাই বা মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য খাওয়া ঈদের একটি রেওয়াজ। সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, কোরমা, পোলাওসহ সুস্বাদু সব খাবারের সম্ভার। রোগীদের জন্য হাসপাতাল এবং এতিমখানা, কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে বন্দিদের জন্য থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। সরকারি শিশুসদন, ছোট্টমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে থাকবে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে মানুষ ছুটছে গ্রামের পানে।