দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। তবে হঠাৎ এমন দরপতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা। সবার মধ্যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবার সম্প্রতি গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। আর করোনা সংক্রমণ বাড়লে দেশের পুঁজিবাজার আবারও বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিনিয়োগকারীরা। এমতাবস্থায় পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বড় দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নেয়া একটি সিদ্ধান্তের পর থেকে চাঙা অবস্থা থেকে যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে, সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। যদিও আশা করা হচ্ছিল, এই সিদ্ধান্তটি বাজারে তারল্য আরও বাড়াবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করতে গত কয়েক মাসে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর প্রশংসা হচ্ছিল।

এসব সিদ্ধান্তের একটি ছিল মার্জিন ঋণের সুদহার নির্দিষ্ট করে দেয়া। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের ঋণ নিয়ে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। তবে আমানতের তুলনায় ঋণের সুদহার ৩ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউজ যদি ৬ শতাংশ সুদে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে তারা ঋণের সুদ নিতে পারবে ৯ শতাংশ।

বর্তমানে মার্জিন ঋণে সুদহার নির্দিষ্ট না থাকায় কোনো কোনো হাউজ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিয়ে থাকে, যদিও এখন দেশে ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ব্যাপক পতনে লেনদেন চলছে। এদিন বেলা ১টা ১৬ মিনিট পরযন্ত ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৮৪ পয়েন্ট কমেছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই পুঁজিবাজার দরপতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে বাজারে লেনদেনও কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, করোনা সংক্রমণ বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ঙ্কের কিছু নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার বন্ধ রাখার কোনো পরিকল্পনা বিএসইসির নেই। এছাড়া গত বছরের মত করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে সরকারের লকডাউনে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক, পুঁজিবাজার কোনোটাই বন্ধ থাকবে না। বিনিয়োগকারীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিনিয়োগকারীরা নির্ভয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর আগে থেকেই পুঁজিবাজারে দরপতন চলতে থাকে। ৮ মার্চের পর পুঁজিবাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দরপতন হয়। এরপর ২৬ মার্চ পরযন্ত পুঁজিবাজারের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। ওই সময় করোনা সংক্রমণ রোধ করতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ওই সময় ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পরযন্ত লকডাউনে দুই মাসের বেশি সময় পুঁজিবাজার বন্ধ থাকে।