দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ব্যাট করতে নেমে ঝড় তুলবেন, একা হাতে ঘুরিয়ে দেবেন ম্যাচ। ক্রিস গেইলকে এই চাহিদার কারণেই দলে নিয়েছিল ফরচুন বরিশাল। কিন্তু সেরা সময় পেছনে ফেলে আসা এই তারকার কাছ থেকে কি চাহিদা অনুযায়ী পারফরম্যান্স পাচ্ছে সাকিব আল হাসানের দল?



এবার বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ২৩.৪০ গড় আর কেবল ১১৭ স্ট্রাইকরেটে গেইল করেছেন ১১৭ রান। এরমধ্যে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৩৫ বলে ৪৫ রান করে ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। বাকি কোন ম্যাচেই তার পারফরম্যান্স থেকে উপকার পায়নি বরিশাল।

ব্যাট হাতে ম্লান থাকলে অন্য কোন ভূমিকাতেও ৪২ পেরুনো গেইলকে কাজে লাগানো যায় না। টি-টোয়েন্টিতে গেইলের ডট বলের সংখ্যা থাকে বেশি। অনেক বেশি ডট খেলে বড় বাউন্ডারিতে সেটা পুষিয়ে নেন পরে। এবার পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তার খেলা ডটবলগুলো চাপ বাড়াচ্ছে দলের।

বরিশালের ব্যাটিং পরামর্শক নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্বীকার করলেন, ব্যাটে নিষ্প্রভ থাকলে গেইল আসলে দলের জন্য অনেকটা বোঝা, ‘সত্যি কথা বলতে হ্যাঁ (বোঝা) হতে পারে। কারণ ও যদি রান না করে ওর কাছ থেকে এরপরে অনেক কিছু পাওয়ার থাকে না এক্সচুয়েলি। হয়তো ফিল্ডিংয়ে ওকে কিছুটা লুকিয়ে রাখতে হয়।’

তবে এখনো খোলস ছেড়ে গা ঝাড়া দিতে না পারলেও গেইলের সামর্থ্যে আস্থা রাখছে বরিশাল, ‘আমরা সবাই জানি এখনো ওর ওই ক্ষমতা আছে পাঁচ ওভারের মধ্যে খেলাটাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার, ক্যাপাসিটি আছে। সেজন্য আমরা এখনো তার উপর বিশ্বাসটা রাখছি এবং ওই জায়গাটা ওকে ছেড়ে দিয়েছে যেন পুরোপুরি মনোযোগী হতে পারে ওখানে। ওর জায়গা নিয়ে যেন চিন্তা করতে না হয়। আমরা আশা করছি যত সময় যাবে ও আস্তে আস্তে নিজেকে এডজাস্ট করবে এবং ভালো করবে।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলতে আসলে ম্যাচ ডের বাইরে অনুশীলনে পাওয়া যায় না গেইলকে। ব্যাটে প্রত্যাশিত রান না পেলেও অনুশীলনে কোন প্রস্তুতি নেন না তিনি। এবার বিপিএলে এসেও তেমনটাই চলছে। বরিশাল যখন অনুশীলনে, গেইল তখন সময় পার করেন হোটেলে। তবে এতে কোন সমস্যা দেখছেন না ফাহিম, ‘না বোধহয় (সমস্যা নেই)। আমরা জানি ওরা যেখান থেকে আসছে ওই জায়গার সংস্কৃতিটা অনেকটা এমনই।

ওরা খেলাটাকে এভাবে দেখে বা নেয়, সো আমরা মানিয়ে নিয়েছি। ওটা যেন ওভারওল টিমের পারফর্ম্যান্সে বা টিমের ডিসিপ্লিনে কোনো ইফেক্ট না ফেলতে পারে সেদিকে আমাদের চোখ আছে। কিন্তু আর যারা আছে তারা সবাই খুবই মনোযোগী, সবাই যার যা কাজটা করছে। হয়ত এরা এভাবেই চলে।’