দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: চলতি বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতিবাচক অবস্থানের কারণে থেমে থেমে পুঁজিবাজার দরপতন চলছিল। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ সেই পতনে ঘি ঢেলেছে। পুঁজিবাজারের পতন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। এই সময়ে বছরের সর্বোচ্চ ১৮২ পয়েন্ট হারানোরও রেকর্ড হয়েছে ডিএসইতে। পুঁজিবাজারের নাজুক এই পরিস্থিতিতে ত্রাণকর্তা হিসাবে আর্বিভূত হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের তিন সুখবর দেয়।



প্রথমত, বাজারে নতুন করে সার্কিট ব্রেকার আরোপ, দ্বিতীয়ত, শেয়ারবাজার স্ট্যাবলাই‌জেশন ফান্ড থে‌কে ১০০ কো‌টি টাকা বি‌নি‌য়ো‌গ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা। এই তিন সুখবরে পাল্টে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। যে কারণে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের পুঁজিবাজার বছরের সর্বোচ্চ উত্থান দেখাল।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে আজ প্রায় ১৫৬ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এদিন উভয় বাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। উভয় বাজারে বিক্রেতাদের চেয়ে ক্রেতাদের বিরচণই বেশি ছিল। সূচকের বড় লাফের পাশাপাশি বেড়েছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেন। আজ বিক্রেতা সংকটে থাকে বহু কোম্পানির শেয়ার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তিন খবরে পাল্টে গেছে শেয়ারবাজারের চিত্র। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি দরপতন ঠেকাতে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ কমার নির্দেশনা বিনিয়োগকারীদের দারণভাবে সাহস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য শেয়ারবাজার স্ট্যাবলাই‌জেশন ফান্ড থে‌কে ১০০ কো‌টি টাকা বি‌নি‌য়ো‌গের জন্য আইসিবি‌কে নি‌র্দেশ বাজারের গতি বাড়িয়েছে।

অপরদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে ২০০ কোটি টাকার ফান্ড ব্যবহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোও নড়েছড়ে বসেছে। যে কারণে বাজারে সিকিউরিটিজের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আজকের পরিস্থিতি দেখে মনেই হয়নি ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি বহমান রয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজারে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দিনভর সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব খাতের শেয়ারের দাম বাড়ায় বুধবার (৯ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ১৫৫ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে ৩৮২ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। এর ফলে চার কার্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গল ও বুধবার দুদিন সূচক বাড়ল।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ডিএসইতে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের ২০ কোটি ৫২ লাখ ৭২ হাজার ৭৭৪টি শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ৩টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টির দাম।

তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৫৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইর অপর দুই সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৪১ পয়েন্ট। ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৭৭৩০ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার শেয়ার। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৪৬ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার শেয়ার।

এদিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার। এরপর ছিল বিএসসি, ফরচুন সুজ, ডিএসএসএল, ওরিয়ন ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইডস, অগ্নি সিস্টেমস, লাফার্জহোলসিম এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো লিমিটেড।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৮২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৪০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২, অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির দাম। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৯০ টাকার শেয়ার। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৯০ টাকার শেয়ার।