দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ নিয়ম লঙ্ঘন করে বন্ধ বিও হিসাব থেকে বিশাল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ করেছে।



বিএসইসির শোকজের জবাব দিয়েছে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ। জবাবে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, ‘শেয়ারগুলি ব্রোকারেজ হাউজের সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট থেকেই বিক্রি করা হয়েছিল, বন্ধ অ্যাকাউন্ট থেকে নয়।’

গত ১১ মে, বুধবার প্রতিষ্ঠানটি একটি বন্ধ বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তিনটি কোম্পানির বিশাল পরিমাণ শেয়ার সেল করার অভিযোগ উঠে। কোম্পানি ৩টি হলো- গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি) লিমিটেড।এর প্রেক্ষিতে সেদিনই বিএসইসি ব্রোকারেজ হাউজটিকে শেয়ার বিক্রির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠানটি পরের দিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জবাব দাখিল করে। প্রতিষ্ঠানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মমকর্তা আহসানুর রহমানের স্বাক্ষরে প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ব্র্যাক ইপিএল-এ বিও অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল। এটি একটি বিদেশী পোর্টফোলিও হিসাব। প্রতিষ্ঠানটি ওই হিসাবে বিদেশী ক্লায়েন্টের লেনদেন সম্পাদন করে। বিও অ্যাকাউন্টটি একটি কাস্টোডিয়ান ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মমকর্তার চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ই-মেইল বা সম্বনিত ব্লোমবার্গের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক ব্রোকারেজ হাউজটিকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় আদেশ পাঠায়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। এরপর ক্লায়েন্টদের কাছে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করার রেকর্ডপত্রও একইভাবে ই-মেইল বা সম্বনিত ব্লোমবার্গের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এরপর ক্লায়েন্টগণ তাদের বিও হিসাবে তথ্য প্রেরণ করেন এবং ব্রোকারেজ হাউজটি সেই মোতাবেক বিও হিসাবে শেয়ার প্রত্যাহার বা জমা করে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এরপর প্রতি লেনদেনের বিবরণ কোম্পানিটির নির্দিষ্ট ফরম্যাটে হার্ড কপি এবং ইমেল বার্তায় বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ক্লায়েন্টদের অবহিত করা হয়।