দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ব্রোকারেজ হাউজে ও মার্চেন্ট ব্যাংকে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেনিশিফিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থেকে লেনদেন না করার জন্য দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নতুন করে নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।



নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ এবং এইচএসবিসি ব্যাংককেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র চালু ও আসল বিও দিয়ে লেনদেন করার জন্য বলা হয়েছে। বুধবার (১৮ মে) বিএসইসির সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান সাক্ষরিত এই সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, যে বিও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে খোলা হয়েছে এবং যে বিওতে সিকিউরিটিজ আছে, শুধুমাত্র ওই বিও থেকেই বিক্রি করা যাবে। এক বিও’র সিকিউরিটিজ অন্য বিও দিয়ে বিক্রি করা যাবে না।

বিএসই সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদেশীদের শেয়ার বিক্রিতে বন্ধ বিও থেকে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের বিরুদ্ধে বেআইনী সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি।

উল্লেখ্য, চার বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশী বিনিয়োগকারী বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির শেয়ার কাস্টডিয়ান হিসাবে রক্ষিত রয়েছে। এই বিও হিসাব থেকেই গত ১১ মে বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি হয়েছে। এই ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে বিএসইসি। এই কারণে বিও হিসাব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি। এইচএসবিসির কাছেও ব্যাখ্যা তলব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও থেকে অস্বাভাবিক লেনদেনের আলোকে কমিশন বন্ধ বা ডামি বা ফেক বিও হিসাব থেকে লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছে।

বিএসইসি চিঠিতে জানিয়েছে, বিএসইসির মার্কেট সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের পর্যবেক্ষনে বন্ধ/ডামি/ফেক বিও থেকে নিয়মিত লেনদেন করার বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিও থেকে লেনদেন করার কোন উদাহরন নেই। এছাড়া দেশে এ জাতীয় লেনদেন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যাখ্যাও সন্তোষজনক না। এমনকি কোন আইনে এই জাতীয় বিও থেকে লেনদেন করা যায়, তা উল্লেখ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।