দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি চায়নি পদ্মা সেতু হোক। তারা সব সময় পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে।’ বুধবার দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বেলা ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালে আমি জাপান গিয়ে রূপসা ও ভৈরব ব্রিজের জন্য আমি প্রস্তাব দিই। বিএনপি সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে জাপানের কাছে ষড়যন্ত্র শুরু করে।’ প্রথমে জাপান মুন্সিগঞ্জ দিয়ে পদ্মাসেতু হবে এই সমীক্ষা করে। বিএনপি জাপানকে বলেছিল পদ্মা সেতু আরিচা দিয়ে হবে। এবং পদ্মা সেতু হবে কয়েকটা নদী দিয়ে ও কয়েক দিক দিয়ে। এটা বলে জাপানকে আরিচা দিয়ে সমীক্ষা করতে বলে। কিন্তু জাপান আবারো মুন্সিগঞ্জ দিয়ে সমীক্ষা করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে এসে আবার যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তখনই আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে দিই। ২০০৯ সালে উদ্যোগ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মুনসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর আমরা ২০১০ সালে নকশা চূড়ান্ত করি। পদ্মা সেতুর ১০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু ছোট করে করতে বলা হয়েছিল। নদী কেটে ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দূরত্ব ধরে নির্মাণের কথা বলা হয়। কিন্তু আমি পদ্মা নদী কাটার ব্যাপারে মত দিইনি। পরে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়। ৪১টা স্প্যান দিয়ে যেন নৌ চলাচল করতে পারে সেই অনুযায়ীই পদ্মাসেতু করা হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। যখনি কোনো দাতা সংস্থা অর্থায়নের কথা ভাববে তারা বাংলাদেশে দুর্নীতির কথা ভেবে পিছিয়ে যাবে। আর পদ্মা সেতুর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। আর এদিকে দেখা যাচ্ছে উল্টো খালেদা জিয়ার ছেলের বিরুদ্ধে আমেরিকার এফবিআই বের করেছে বিপুল পরিমাণ টাকার দুর্নীতি।

তারা কীভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলে এটাই আফসোস।’ যারা যারা পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে তাদের সবাইকে আমি বলব আসুন, দেখে যান পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কিনা। ঘুরে যান পদ্মা দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।