সামনের দিনগুলোতে পুঁজিবাজার অনেক ভালো হবে: আহমেদ রশীদ লালী
মহসিন সুজন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজার বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও সূচক তেমন না বাড়লেও লেনদেন বেড়েছে। ফলে কিছুটা হলে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরছে বিনিয়োগকারীদের। কারণ তলানী থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছে পুঁজিবাজার। গত ১ মাস ধরে তালমাতাল ছিল পুঁজিবাজার। ফলে গত সপ্তাহে টানা চার কার্যদিবস পুঁজিবাজারে লেনদেন ভালো হলেও মাসজুড়ে বেশিরভাগ কার্যদিবস শেষ হয়েছে দরপতন দিয়ে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য জুলাই-আগষ্টে ডিভিডেন্ডের ঘোষণা দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই জুন মাসে বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ে, কমে ক্রেতা আর লেনদেন। তবে ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা বাজার সংশ্লিষ্টদের। নতুন বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগটি যুগোপযোগি বলেও মনে করেন তারা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, অর্থবছর শেষে লাভে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে থাকে। সাধারণত এ সময়ে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা থাকে বেশি। পাশাপাশি ডলারের দাম বেশি থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে। তাই গত মাসে বাজারের চিত্র কিছুটা খারাপ ছিল বলে মনে করেন ডিএসই’র সাবেক কর্মকর্তা আহমদ রশীদ লালী।
প্রতিষ্ঠানগুলো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করার পর বাজার ঘুঁরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তাগিদও দিলেন এই পুঁজিবাজার বিশ্লেষক। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বুঝেশুনে ধৈর্য্য ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ রশীদ লালী বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারের অংশ হওয়ার এখনো অনেক কিছু বাকি আছে। সেসব পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। সামনের দিনে পুঁজিবাজারে অনেক ভালো কিছু দেখতে পাব। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি ক্লিয়ারিং করপোরেশন হয়েছে। বন্ড মার্কেটের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এ রকম আরো বহু ইতিবাচক প্রোডাক্ট পুঁজিবাজারে আসবে। এর মাধ্যমে বাজার অনেক বড় হবে৷ প্রোডাক্ট যত বাড়বে পুঁজিবাজার তত সমৃদ্ধ হবে। পুঁজিবাজারের গ্রোথ এখনো অনেক বাকি, যেটা ভবিষ্যতে আমরা দেখতে পাব। এ জন্য আমি আশা করছি সামনের দিনগুলোতে পুঁজিবাজার অনেক ভালো হবে।
বর্তমান পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ওঠানামার প্রবণতা পৃথিবীর সব পুঁজিবাজারেই আছে। আমরা বলি পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হয়ে গেছে। পুঁজিবাজার কখনো স্থিতিশীল হয় না। দুনিয়ার সব জায়গায় পুঁজিবাজার ওঠানামার মধ্যে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। এর মধ্যে আপনাকে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করতে হবে, ব্যবসা করতে হবে। বাজার ওঠা-নামার মাঝে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো যুক্তি নেই।
ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আহমেদ রশীদ লালী বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর একটা ভালো নিয়ন্ত্রিত সেক্টর। ব্যাংকিং সেক্টর সব সময় ভালো লভ্যাংশ দেয়। কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে দেখেছি আমরা বিগত দিনগুলোতে। তাই বিনিয়োগকারীরা ধরেই রাখে যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ তো পাওয়া যাবে। কিন্তু ব্যাংক সেক্টরে যেটা হয়েছে তাদের ক্যাপিটালাইজেশন বিশাল হয়ে গেছে।
ব্যাংকভেদে ৭০০ কোটি থেকে নিয়ে ১৮০০ কোটি টাকাও হয়ে গেছে পেইড আপ ক্যাপিটাল। এত বড় ক্যাপিটাইলেজশনের মুভমেন্টটা কম হয়। বিনিয়োগকারীরা এত বড় ক্যাপিটালাইজেশনে কম যেতে চায়। তবে এখনো সবার আস্থার জায়গা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ কার্যদিবসে দরপতন দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন। তবে গত সপ্তাহে টানা চার কার্যদিবস ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক উর্ধ্বমুখি ছিল। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসই’র প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩০১ পয়েন্টে।
আর ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কমে লেনদেন হয় ৫৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আবার শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে। আর ১৩২ কোটি ৫ লাখ টাকা বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।



